Tuesday, August 7, 2018

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেপ্তার ২২ ছাত্র দুই দিনের রিমান্ডে

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেপ্তার ছাত্রদের ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে নেওয়া হয়। ছবি: আসাদুজ্জামান
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেপ্তার ছাত্রদের ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে নেওয়া হয়। ছবি: আসাদুজ্জামানবেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেপ্তার ছাত্রদের ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে নেওয়া হয়। ছবি: আসাদুজ্জামানপুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের পৃথক দুই মামলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ছাত্রের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর হাকিম আবদুল্লাহ আল মাসুদ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার আসামিরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, সাউথইস্ট ও ব্র্যাকের ছাত্র। এর মধ্যে বাড্ডা থানা-পুলিশ ১৪ জন ছাত্রকে এবং ভাটারা থানা-পুলিশ ৮ জন ছাত্রকে আদালতে হাজির করে প্রত্যকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে।
বেলা ৩টার দিকে আদালতের এজলাসে তোলা হলে স্বজনদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ছাত্ররা। তাঁদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে দাবি করেন, পুলিশ ধরে নিয়ে থানায় ফেলে নির্যাতন করেছে। ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার পথে কয়েজনকে গ্রেপ্তার করেছে।বে বাড্ডা থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জুলহাস মিয়া রিমান্ড আবেদনে বলেন, গতকাল (সোমবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা আফতাব নগর মেইন গেটের রাস্তায় যান চলাচলে বাধা দেয়। লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল দিয়ে রাস্তার গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের ওপর আক্রমণ করে আসামিরা। এ ঘটনার ইন্ধনদাতা এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে, আসামিরা বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) গাড়ি ভাঙচুর করেছে। তাঁরা বাড্ডা পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন ধরাতে গেলে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে



অন্যদিকে ভাটারা থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাসান মাসুদ রিমান্ড আবেদনে বলেন, আসামিরা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার অ্যাপোলো হাসপাতাল ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় লোহার রড, লোহার পাইপ ও ইট দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে। আসামিরা বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলের আশপাশের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসার দরজা, জানালা ভাঙচুর করে। পলাতক আসামিরা জঙ্গি গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য। তাঁদের গ্রেপ্তারের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এ কে এম মুহিউদ্দিন ফারুক আদালতকে বলেন, পুলিশ নিরপরাধ ছাত্রছাত্রীদের ধরে নিয়ে ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিদওয়ান আহমেদের আইনজীবী কবির হোসেন আদালতকে বলেন, ‘পুলিশ ধরে নিয়ে থানায় ফেলে মেরে তাঁর হাতের একটি আঙুল ভেঙে দিয়েছে। তৃতীয় পক্ষের যারা ষড়যন্ত্র করেছে তাঁদের পুলিশ গ্রেপ্তার না করে নিরীহ ছাত্রদের ধরে এনেছে।’
এ ছাড়া আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেপ্তার করা ছাত্রদের পরীক্ষা চলছে। ৯ আগস্ট তাঁদের পরীক্ষা আছে। জামিন না পেলে তাঁদের শিক্ষা জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গ্রেপ্তার ছাত্র মাসাদ মরতুজা বিন আহাদ, ফয়েজ আহম্মেদ আদনান এবং আজিজুল হাকিমের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, পুলিশ থানায়ফেলে এই ছাত্রদের বেধড়ক পিটিয়েছে। তবে এই তিনজনের ব্যাপারে পুলিশ আদালতকে প্রতিবেদন দিয়ে দাবি করছে, গ্রেপ্তার করার সময় ধস্তাধস্তির কারণে তাঁরা সামান্য আহত হন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বাড্ডার মামলায় গ্রেপ্তার ১৪ ছাত্র হলেন, রিসালাতুল ফেরদৌস, রেদোয়ান আহমেদ, রাশেদুল ইসলাম, বায়েজিদ, মুশফিকুর রহমান, ইফতেখার আহম্মেদ, রেজা রিফাত আখলাক, এএইচএম খালিদ রেজা, তারিকুল ইসলাম, নূর মোহাম্মাদ, সীমান্ত সরকার, ইকতিদার হোসেন, জাহিদুল হক ও হাসান। আর ভাটারা থানার মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্ররা হলেন, আজিজুল করিম, মাসাদ মরতুজা বিন আহাদ, ফয়েজ আহম্মেদ আদনান, সাবের আহম্মেদ, মেহেদী হাসান, শিহাব শাহরিয়ার, সাখাওয়াত হোসেন ও আমিনুল এহসান।


ভক্তের সঙ্গে সাকিবের আসলে কী হয়েছিল

সমর্থকদের সঙ্গে মাঠে এভাবেই আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন সাকিব, অথচ ম্যাচ শেষে তাঁর লেগে গেল এক ভক্তের সঙ্গে। ছবি: এএফপি
সমর্থকদের দিকে সাকিবের তেড়ে যাওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। যিনি লডারহিলে জেতার পর ‘ল্যাপ অব অনার’ দিয়েছেন, মাঠের চারদিকে ঘুরে দর্শকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন; তাঁর সঙ্গে কী এমন হয়েছিল, যে এভাবে চটে গেলেন?
ম্যাচ শেষ হোটেলে ফিরছিলেন সাকিব আল হাসান। লবিতে সমর্থকদের ভিড়। এক সমর্থকের সঙ্গে হঠাৎ তর্ক লেগে গেল। একপর্যায়ে সমর্থকের দিকে তেড়ে গেলেন, আপত্তিকর ভঙ্গি। এখানেই শেষ নয়। চলে যেতে গিয়েও আবার ফিরলেন। ভীষণ উত্তেজিত সাকিব আরেকবার তেড়ে গেলেন। পরে পরিস্থিতি সামলালেন তামিম ইকবালসহ কয়েক সতীর্থ। সমর্থকদের দিকে সাকিবের এই তেড়ে যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। চলছে নানা গুঞ্জন।সাকিব লডারহিলে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সিরিজ জেতার পর ‘ল্যাপ অব অনার’ দিয়েছেন, মাঠের চারদিকে ঘুরে দর্শকদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছেন; তাঁর সঙ্গে কী এমন হয়েছিল, যে এভাবে চটে গেলেন? দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনা ঘটেছে কাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের পর। মাঠ থেকে খেলোয়াড়েরা ফিরছিলেন টিম হোটেলে। লবিতে তখন জড়ো হয়েছেন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ সমর্থক। বেশির ভাগই বাংলাদেশি প্রবাসী। ক্রিকেটারদের নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় মাতামাতি। সেলফি তোলার হিড়িক। আর সই নেওয়ার মিছিল।
এর মধ্যে এক সমর্থক সাকিবের সঙ্গে সেলফি তুলতে চেয়েছেন। অটোগ্রাফ চেয়েছেন, ভিডিও করতে চেয়েছেন। সাকিব সেলফি অথবা অটোগ্রাফ এই দুইয়ের একটি আবদার মিটিয়েছেন বলে দলের সেই সূত্র প্রথম আলোকে নিশ্চিত করে। সূত্রটি জানিয়েছে, ভক্তের চাওয়া ছিল আরও বেশি। ৪৬ দিনের দীর্ঘ সফর শেষে খেলোয়াড়েরা সবাই ভীষণ ক্লান্ত ছিলেন। সাধারণত সব সফরের শেষে এসে সবাইকে এমন ক্লান্তি পেয়ে বসে। সাকিব পারবেন না বলে সোজা হাঁটা দেন। এ সময়ই ওই সমর্থক অশালীন মন্তব্য করে বসেন। যার মূল বক্তব্য ছিল, সাকিব ভাব নিচ্ছেন। এতেই ভীষণ চটে যান বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।
ওই সূত্রের বক্তব্য প্রথম আলো প্রত্যক্ষদর্শী আরও দুজনের কাছ থেকে শুনে নিশ্চিত করেছে। ঘটনা এটিই ছিল। সাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ফ্লোরিডা থেকে তিনিও প্রথম আলোকে এমনটাই জানান।


ভক্তের সঙ্গে সাকিবের লেগে গিয়েছিল কাল। ছবি ভিডিও থেকে নেওয়াহোটেলের নিরাপত্তাকর্মীরা ওই ভক্তকে সরিয়ে দেন। ভক্ত কী বলেছেন, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সেটি বোঝা যাচ্ছে না। তবে সাকিব যে তেড়ে আসছেন এবং অশ্লীল ভঙ্গিতে কিছু বলছেন, সেটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আর এতেই বিতর্কের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশ টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।
বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের এক সদস্য ফ্লোরিডা থেকে মুঠোফোনে বলছিলেন, ‘ওই ভক্ত সাকিবকে উত্ত্যক্ত করছিলেন। খেলার পর সে ভীষণ ক্লান্ত ছিল, তাকে যেভাবে বিরক্ত করা হচ্ছিল, একটা সময়ে নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে অমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। মানুষটা সাকিব আল হাসান বলেই এই প্রতিক্রিয়া নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। কিন্তু ভক্তদেরও একটু বোঝা উচিত, কখন ছবি তোলা কিংবা অটোগ্রাফ নেওয়া যায়, আর কখন যায় না। কখন কতটুকু আবদার করা যাবে। সেটি পূরণ না হলে আপনি কষ্ট পেতে পারেন বা হতাশ হতে পারেন। কিন্তু এমন কিছু বলা উচিত না, যেটা উসকানিমূলক।’

সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তথ্যমন্ত্রীর চিঠি



নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। আজ মঙ্গলবার বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে এই অনুরোধ করেন তথ্যমন্ত্রী।

এর আগে দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, হামলাকারীদের চিহ্নিত করার জন্য এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আজই চিঠি দেওয়া হচ্ছে। তখন তথ্যমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের শেষের দিকে কিছু জায়গায় কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তা দুঃখজনক। যারা সাংবাদিকদের গায়ে হাত তুলেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মৌখিকভাবে ইতিমধ্যে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি পদক্ষেপ নেবেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের ছবি তাঁরা পেয়েছেন, গোয়েন্দারাও পেয়েছেন। তাঁরা আশা করছেন এ বিষয়ে প্রতিকার হবে। আর ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আরও সজাগ-সতর্ক হবেন।গত ২৯ জুলাই ঢাকার রাস্তায় বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপদ সড়কসহ কয়েকটি দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে শিক্ষার্থীরা। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিভিন্ন যানবাহনের লাইসেন্স পরীক্ষা করতে শুরু করে তারা। তাদের এই আন্দোলনে সাড়া মেলে অভাবনীয়। আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে গত রোববার রাজধানীর জিগাতলা এলাকায় বেধড়ক মারধরের শিকার হন সাংবাদিকেরা।

নতুন সড়ক পরিবহন আইন কলকাতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আনন্দমিছিল

মন্ত্রিসভায় নতুন সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া চূড়ান্ত হওয়ায় আনন্দমিছিল করেন কলকাতায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় নতুন সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন হওয়ায় কলকাতায় আনন্দ প্রকাশ করেছে সেখানে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। তাঁরা এ আইনের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানান।এ উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের একটি দল কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে।স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের দাবি মেনে নতুন করে সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়ন করে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছে। এ জন্য তাঁরা বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি স্মারকলিপিতে বলা হয়, সরকার দাবি মেনে নেওয়ার পর এখন যারা আন্দোলন করছে তারা কাদের ইঙ্গিতে এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে, তা চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্মারকলিপি দেওয়ার আগে বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের একটি মিছিল উপহাইকমিশনের দিকে যেতে চাইলে পথিমধ্যে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। পরে শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহাম্মদ আরাফাত হোসাইন ও মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম উপহাইকমিশনে গিয়ে স্মারকলিপিটি পৌঁছে দেন।






এবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে বসছেন শিক্ষামন্ত্রী


শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে এবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বৈঠকে ডেকেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগামীকাল বুধবার বেলা তিনটায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত রোববার ঢাকা মহানগরীর সরকারি-বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং স্কুলপ্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে শিক্ষার্থীদের রাজপথ ছেড়ে ক্লাসে ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। ওই দিনই স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরানো এবং উপস্থিতির তথ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এই নির্দেশের পর গত সোমবার কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামে। তবে গতকাল পরিস্থিতি ছিল শান্ত। এমন পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বৈঠকে ডাকা হয়েছে।

Monday, August 6, 2018

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সোমবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বাসসকে জানান, প্রধানমন্ত্রী সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের অগ্রগতি নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করেন।

মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন জানান, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও নীতির অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের এই বৈঠকে সংসদীয় কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এর আগে শেখ হাসিনা সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে বঙ্গভবনে পৌঁছান এবং রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে এসে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাঁকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিব এবং পদস্থ কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের বাসায় ফেরার আহ্বান জানিয়ে কাঁদলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনকোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে নোংরা রাজনীতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। তাঁর মতে, নানা গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে সুযোগসন্ধানীরা। তাই দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে সময় দিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বাসায় ফেরার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় শিক্ষার্থীদের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন ইলিয়াস কাঞ্চন।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘ইতিমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী ঘরে ফিরেছে। কিছুসংখ্যক এখনো রাজপথে আছে। তোমাদের জীবন নিয়ে আমি শঙ্কিত। তোমাদের জীবনের জন্য তোমরা ঘরে ফিরে যাও।’ দাবি আদায় না হলে আবার রাস্তায় নামা যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনে থাকা বিভিন্ন ধারা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর রাখা হয়েছে। অথচ সর্বনিম্ন শাস্তির বিধান রাখা হয়নি। আইনে বলা হয়েছে, হত্যা প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু সেটা হবে তদন্তসাপেক্ষে ৩০২ ধারায়। এতে সাধারণ লোকজন ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তিনি মনে করেন সব সময় চালককে দোষী ভাবা ঠিক নয়। দায়ী মালিক হতে পারে, পথচারীও হতে পারে। তাই আইনে ‘চালক’ শব্দটির পরিবর্তে ‘দায়ী ব্যক্তি’ ব্যবহার করা যেত। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মতো সড়ক পরিবহন আইনেও জামিন অযোগ্য বিধানটি রাখা যেত বলে মনে করেন তিনি। 
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান খান বলেন, ফিটনেসের পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ, চোখে দেখে পৃথিবীর কোথাও ফিটনেস দেওয়া হয় না। ভেহিক্যাল ইন্সপেকশন সেন্টারের মাধ্যমে করা হয়, এখানেও তা করতে হবে। চোখে দেখা মানেই টাকার কারবার। মেশিনে পরীক্ষা করলে লক্করঝক্কর গাড়ি ফিটনেস পাবে না।
বহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান খান বলেন, ফিটনেসের পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ, চোখে দেখে পৃথিবীর কোথাও ফিটনেস দেওয়া হয় না। ভেহিক্যাল ইন্সপেকশন সেন্টারের মাধ্যমে করা হয়, এখানেও তা করতে হবে। চোখে দেখা মানেই টাকার কারবার। মেশিনে পরীক্ষা করলে লক্করঝক্কর গাড়ি ফিটনেস পাবে না।

নরসিংদীতে রিজার্ভ ট্যাংকে নেমে শ্রমিকসহ নিহত ৩

মৃত ব্যক্তিদের পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় উদ্ধার করে নিয়ে আসেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। নরসিংদী, ৮ জুলাই।



নরসিংদীতে নির্মাণাধীন ভবনের পানির ট্যাংকে কাজ করতে নেমে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পৌর এলাকার বিলাসদীর ব্যাংক কলোনিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃত্যু ব্যক্তিরা হলেন নির্মাণাধীন ভবনের ঠিকাদার নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সিরাজুল ইসলাম (৩২) এবং দুই শ্রমিক কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার রাকিব মিয়া (২২) ও চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের রমিজ মিয়া (২৬)। এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়েন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা কামাল হোসেন (৪০)।


পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণাধীন ভবনটি এক কুয়েতপ্রবাসীর। কিছুদিন আগে পানি জমা রাখার জন্য এই রিজার্ভ ট্যাংকের কাজ শেষ হয়। এরপর থেকে এর ঢাকনা বন্ধ ছিল। আজ ট্যাংকের ভেতর থেকে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কাঠগুলো খুলে আনতে যান শ্রমিকেরা। প্রথমে একজন শ্রমিক ট্যাংকের ভেতরে নামেন। এ সময় তাঁর সাড়া না পেয়ে পর্যায়ক্রমে আরও দুজন নামেন। কিন্তু তাঁরা সবাই ভেতরে জমে থাকা ‘বিষাক্ত গ্যাসে’ অচেতন হয়ে পড়েন। সর্বশেষ তাঁদের সন্ধানে কামাল হোসেন নামের একজন ট্যাংকে নামতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাসের অবস্থা টের পান এবং দ্রুত উঠে আসতে সক্ষম হন। কামাল আশপাশে থাকা স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানাতে পারলেও কিছুক্ষণের মধ্যে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ট্যাংকের ভেতর থেকে ৩ জনকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নরসিংদী জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা এ এন এম মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি মিথেন, সালফারসহ বিভিন্ন রাসায়নিক ও গ্যাসীয় পদার্থের বিষক্রিয়ায় তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, দীর্ঘদিন ট্যাংকের মুখ ঢেকে রাখায় ভেতরে বিভিন্ন রকমের গ্যাস জমে ছিল। সেই গ্যাসের বিষক্রিয়ায় তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। নরসিংদী সদর হাসপাতালে লাশগুলোর ময়নাতদন্ত হবে।



বসুন্ধরা আবাসিকে দিনভর উত্তেজনা, সংঘর্ষ

     বসুন্ধরার ভেতরে দিনভর পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলেরাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) কাছে আজ সোমবার সকাল থেকে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলেছে। এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ঘিরে ও আবাসিক এলাকার ভেতরে আজ দিনভর অন্তত ১২ বার পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পুলিশ এ সময় কয়েক শ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে, রাবার বুলেটও ছুড়েছে অনেক।প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলছেন, দিনভর সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। রাত ৮টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও সাজোঁয়া যান এনে রাখা হয়।
দফায় দফায় হামলায় আহত হন এক পুলিশ সদস্যবিকেলে আন্দোলনকারীরা যমুনা ফিউচার পার্কের পেছনের ফটকের কাছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ঢোকার মুখ থেকে অ্যাপোলো হাসপাতালে যাওয়ার রাস্তায় ও বিভিন্ন গলিতে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা ৩০০ থেকে ৪০০ জনের মতো। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আছেন ৪০ বা এর বেশি বয়সের কিছু ব্যক্তি। পুলিশ মাঝেমধ্যে গিয়ে সেখানে তাঁদের ধাওয়া দিলে এসব আন্দোলনকারী দৌড়ে বিভিন্ন গলিতে পালিয়ে যান। আবার পুলিশ চলে গেলে তাঁরা ফিরে বিকেল চারটার দিকে পুলিশকে লক্ষ্য করে আন্দোলনকারীরা ইট ও পাথর ছুড়ে মারেন। পরে পুলিশ তাঁদের ওপর শতাধিক রাবার বুলেট ছোড়ে। এ সময় রাবার বুলেটের আঘাতে ১০ থেকে ১২ বছর বয়সী এক শিশু ও ১৫ বছর বয়সী একটি কিশোর আহত হয়। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এরা কেউ এখানকার কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র নয়। বসুন্ধরার পাশের বস্তিতে থাকে।
এক বক্তিকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ
আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলে আন্দোলন জোরদার করতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সটি ও আইইউবির কিছু শিক্ষার্থী রামপুরায় ইস্ট ওয়েস্টের ক্যাম্পাসে যান। সেখানে পুলিশের ধাওয়ার মুখে এসব শিক্ষার্থী আবার বসুন্ধরার ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন। তারপর থেকে বসুন্ধরা এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন তাঁরা। বেলা আড়াইটার দিকে পুলিশ এসব শিক্ষার্থীকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে। তবে তাঁরা এলাকা ছেড়ে যেতে রাজি হননি। এরপর পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।নর্থ সাউথ ইউনিভার্সটি ও আইইউবির নিরাপত্তা বিভাগের কয়েকজন কর্মী জানান, নিরাপদ সড়কের দাবির আন্দোলনে প্রথম তিন দিন এখানে কেউ অবস্থান নেয়নি। গত বৃহস্পতিবারই স্কুলের শিক্ষার্থীরা এখান থেকে চলে যায়।  তিন দিন ধরে এই এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।আজ দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীদের কয়েকজন অভিযোগ করেন, বসুন্ধরার ফটকে আজ পুলিশ যে শিক্ষার্থীর কাছে আইডি কার্ড পেয়েছে, তাঁকেই পিটিয়েছে বা ধরে নিয়ে গেছে।


সড়ক আটকে শিক্ষার্থীদের অবস্থান।পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,  ‘তিন দিন ধরে একনাগাড়ে এই এলাকায় এসব লোক রয়েছে। আমাদের কাছে তথ্য আছে এখানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা আশ্রয় নিয়েছে। পুরো এলাকা মানুষের বাসযোগ্য করে তোলার জন্যই আমরা কাজ করছি।’পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, দেশের একটি বৃহৎ হাসপাতাল এখানে। এ ছাড়া এই এলাকায় কূটনীতিকদেরও বসবাস। এখানে আসা রোগীদের অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত ধরে ধরে এরা চেক করছে। এই প্রতিবেদকও দেখেন, অ্যাপোলো হাসপাতালমুখী অনেক গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স আটকে সেসব চেক করে এসব আন্দোলনকারী। এ জন্য গাড়ির দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়।আজ এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের জন্য সেখানে আসা গণমাধ্যমকর্মীরা পুলিশ ও আন্দোলনকারী দুপক্ষের কাছেই হেনস্তার শিকার হন।আন্দোলনকারীরা রাস্তার বিভাজকগুলো উপড়ে রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছেন। এর ফলে এই এলাকায় যানবাহন চলতে পারছে না ঠিকমতো।
এখন কার্যত চারদিক দিয়ে আন্দোলনকারীদের ঘিরে রেখেছে পুলিশ। আজ সন্ধ্যায় আহতদের সন্ধানে অ্যাপোলো হাসপাতালে গেলে সেখানে কর্তব্যরত এক কর্মকর্তা বলেন, আহত মানুষের সংখ্যা বলা যাচ্ছে না। কাল সকালে নিশ্চিত করে বলা যাবে।

শহিদুল আলমকে অপহরণ করা হয়: রেহনুমা আহমেদ


আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে বাসা থেকে গতকাল রোববার রাতে অপহরণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তাঁর স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর দৃক গ্যালারিতে এক সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ কথা বলেন।


রেহনুমা অভিযোগ করেন, গতকাল ধানমন্ডির ৯/এ সড়কের বাসার চারতলা থেকে শহিদুলকে ধরে নিয়ে যায় ডিবি (পুলিশের গোয়েন্দা শাখা) পরিচয় দেওয়া একদল লোক। একটু আগে তিনি সংবাদমাধ্যমে জেনেছেন, শহিদুলকে ডিবি অফিসে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু গতকাল সারা রাত ডিবি অফিসে বসে থেকেও শহিদুলের ব্যাপারে কোনো তথ্য পাননি তিনি। আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফোন করে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে যেতে বলা হয়েছে।



রেহনুমা লিখিত বিবৃতিতে বলেন, শহিদুলকে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ সময় বাড়ির সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে তারা হার্ডডিস্ক নিয়ে যায়। তিনটি গাড়িতে তারা এসেছিল। নিরাপত্তারক্ষীদের ফোন নিয়ে নিয়েছিল। কাউকে কথা বলতে দেয়নি।